সবজিতে স্বস্তি মিললেও দাপট কমেনি মাছ-মাংসের
রোজায় বেড়েছে চালের দাম
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৭-০২-২০২৬ ০২:০৬:৫৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৭-০২-২০২৬ ০৮:৫৮:২২ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
পবিত্র রমজান ঘিরে নিত্যপণ্যের বাজারে ভিন্নমুখী চিত্র দেখা যাচ্ছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নিউমার্কেট ও রায়েরবাজার ঘুরে দেখা গেছে, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে মিনিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪ থেকে ৫ টাকা। এতে সাধারণ ক্রেতাদের ব্যয় আরও বেড়েছে। অন্যদিকে লেবু, শসা ও কাঁচামরিচের মতো কিছু সবজিতে স্বস্তি ফিরলেও মাছ, ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি এবং গরুর মাংসের দামে তেমন পরিবর্তন নেই। ফলে রোজার বাজারে আংশিক স্বস্তি মিললেও পুরোপুরি চাপ কাটেনি।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথ বলে জানা যায়, গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে অধিকাংশ মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এখন বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৮৪ থেকে ৮৮ টাকা পর্যন্ত। যা দুই সপ্তাহ আগেও ছিল ৮০ থেকে ৮২ টাকা। নাজিরশাইল চাল ৭৪ থেকে ৭৮ টাকা, কাটারিভোগ ৭০ থেকে ৭৫ টাকা, ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ চাল ৫৮ থেকে ৬০ টাকা, স্বর্ণা গুটি চাল ৫৫ থেকে ৫৬ টাকা এবং চিনি গুঁড়া পোলাও চাল মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়।
রাজধানীর নিউমার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী মুক্তা আক্তার বলেন, “চালের দাম বেড়েছে। গত মাসে মোজাম্মেল ব্রান্ডের চাল নিয়েছি ৮৪ টাকা কেজি, আজ ৮৮ টাকা রেখেছে।” একই বাজারের সামাদ রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী সামাদ ইসলাম বলেন, “গত দুই সপ্তাহে ধরে চালের দাম বাড়তি। মিল থেকেই দাম বেড়েছে। তবে সামনে কিছুটা কমতে পারে।”
বাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজানের শুরুতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও। কয়েক দিনের ব্যবধানে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বাজারে। এখন প্রতিটি লেবু ১০ থেকে ১৫ টাকার মধ্যেই মিলছে। অথচ রোজার শুরুর দিকে এই দাম ছিল প্রায় তিনগুণ। তবে রমজানের দ্বিতীয় সপ্তাহে মাছ, ব্রয়লার মুরগি ও গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। শুধু লেবুই নয়, শসার দামও কমেছে। কয়েক দিন আগেও যেখানে প্রতি কেজি শসা ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, এখন তা কমে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় নেমেছে। কাঁচামরিচের ক্ষেত্রেও কিছুটা ছাড় মিলেছে। মানভেদে বর্তমানে কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক দিন আগে ১৮০-২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।
বাজারে মাঝারি মানের এক হালি লেবু এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারে বড় হলে দাম উঠছে ৮০-১০০ টাকা পর্যন্ত। রোজা শুরুর আগের দিন ও প্রথম দুদিন একই মানের লেবু ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সে সময় এই দামে এক ডজন ডিম বা এক কেজির বেশি ছোলা কিংবা চিনি কেনা যেত বলে মন্তব্য করেন ক্রেতারা। বিক্রেতারা জানান, রমজানের প্রথম দিকে শরবতের চাহিদা বেশি থাকায় লেবুর বিক্রি বাড়ে। ফলে দামও চড়ে বসে। তবে দিন যত গড়াচ্ছে, ততই সেই চাপ কমছে। অন্যদিকে রোজার শুরুতে কেজিপ্রতি ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হওয়া লম্বা বেগুন বর্তমানে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় উঠেছে। মাঝে সামান্য কমলেও আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা দরে; যা গত সপ্তাহে ছিল ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে কমেছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। একইভাবে দর কমেছে সোনালি জাতের মুরগির। এ জাতের মুরগি কিনতে ক্রেতাকে কেজিতে গুনতে হবে ৩০০ টাকা; যা সপ্তাহ আগে ছিল ৩২০ টাকা। এ ছাড়া গরুর মাংসের কেজি পাওয়া যাচ্ছে ৮০০ টাকায়। যা গত সপ্তাহের তুলনায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
মাছের বাজার ঘুরে আরও দেখা যায়, প্রতি কেজি পাঙ্গাস ২০০ টাকা থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, মৃগেল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, দেশি টেংরা ৪৫০ টাকা, বেলে ২৫০ টাকা, বাইন ৬০০ টাকা, চিংড়ি ৯০০ টাকা, পাবদা ৪০০, কই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, শিং ৪০০শ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, সইল ৭০০ টাকা, টাকি ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে চিংড়ির দাম বেশি দেখা গেছে। আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজিতে খরচ করতে হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স